Prediction by The Daily Amader Shomoy
দৈনিক আমাদের সময়
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০০৮, মঙ্গলবার : আশ্বিন ৮, ১৪১৫ । আপডেট বাংলাদেশ সময় রাত ১২:০০
নির্বাচনে মহাঐক্যজোটের জয়ের সম্ভাবনা বেশি বিএনপি শতাধিক এবং আ’লীগকে ৩০-৫০ আসনে নতুন প্রার্থী দিতে হতে পারে, ফ্যাক্টর জাপা-জামায়াত শামছুদ্দীন আহমেদ ও সন্তোষ শর্মা: রাজনীতিতে নতুন করে কোনো সংযোজন-বিয়োজনের ঘটনা না ঘটলে এবং ১৮ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাঐক্যজোটেরই জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি। তবে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সঙ্গে মহাঐক্যজোটের জয়ের ব্যবধান খুব বেশি উল্লেখযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই ব্যবধান হতে পারে ৪০ থেকে ৫০ আসনের। চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এবং বর্তমান জোট-মহাজোটের অবস্থান পর্যালোচনা করলে ভোটের সম্ভাব্য এমন ফলাফলই প্রতীয়মান হয়। তবে নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ আগামী দিনগুলোতে প্রধান দুটি দলের অভ্যন্তরে ও জোটের আকারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে ওলটপালট হয়ে যেতে পারে সম্ভাব্য এই হিসাব-নিকাষ। পর্যালোচনায় আরো দেখা যায়, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় সাজা হওয়ার পাশাপাশি বিতর্কিত ভাবমূর্তি ও দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে এবারের সংসদ নির্বাচনে শতাধিক আসনে নতুন প্রার্থী দিতে হতে পারে বিএনপিকে। আর আওয়ামী লীগের পুরনো প্রার্থী বদল হতে পারে ৩০ থেকে ৫০টি আসনে। অন্যদিকে, বর্তমান জোট-মহাঐক্যজোট অটুট থাকলে নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জামায়াত। একদিকে স্ব স্ব জোটের কাছে অপরিহার্য হয়ে উঠবে এ দুটি দল, অন্যদিকে দুই থেকে ১০টির বেশি আসনে আগের প্রার্থীর বদলে নতুন প্রার্থী দিতে হবে না জাপা-জামায়াতকে। উভয় দিক থেকেই তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এই দুটি দল।
১/১১’র পর দল বদল করায়, কিছু নেতার বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করার কারণেও আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা ও জামায়াতকে কিছু আসনে নতুন প্রার্থী দিতে হবে। এর বাইরে এলডিপি ও জাতীয় পার্টি (জেপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিকে (বিজেপি) প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো কোনো আসনে হোঁচট খেতে হবে। দলগতভাবে আগের অবস্থানেই অটুট থাকবে বিকল্পধারা। জাপা-জামায়াতের পাশাপাশি ১/১১’র পর জš§ নেয়া পিডিপি, কল্যাণ পার্টি ও এনপিপিও ১০ থেকে ১৫টি আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি কিংবা চারদলীয় জোট-মহাঐক্যজোটকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকার দোহার, মতিঝিল-সবুজবাগ, রাজশাহীর ২টি আসন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ, টাঙ্গাইলের কালিহাতি, খুলনা শহরের ২টি আসন, চট্টগ্রাম শহরের ২টি আসন ও রাঙ্গুনিয়া, ঝালকাঠি-১, সিরাজগঞ্জ সদর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, ডেমরা, লক্ষ¥ীপুরের ২টি আসন, নেত্রকোনার ১টি আসন, নাটোরের ১টি আসন, ঢাকার রমনা-তেজগাঁও, সূত্রাপুর-কোতোয়ালি, কুমিল্লার দেবিদ্বার, জামালুপরের ২টি আসন, ভোলার ২টি আসন, খাগড়াছড়ি, সিলেট সদর, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর, নীলফামারির একটি আসন, নড়াইল-১, নরসিংদীর শিবপুর, যশোরের শার্শা, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, কক্সবাজার-১, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, নারায়ণগঞ্জের ২টি আসন, বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝরা, হিজলা, মুলাদি, সদর, মেহেন্দিগঞ্জ, ফরিদপুর সদর, কিশোরগঞ্জের ১টি আসনসহ প্রায় শতাধিক আসনে দলীয় প্রার্থী নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বিএনপিকে। আর আওয়ামী লীগকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝরা, চাঁদপুরের কচুয়া ও মতলব, ফরিদপুরের ভাঙা, বাগেরহাটের চিতলমারি, ঢাকার রমনা-তেজগাঁও, লালবাগ, ধানমণ্ডি-মোহাম্মদপুর, মিরপুর, খুলনার ১টি আসন, না’গঞ্জ সদরসহ ৩০ থেকে ৫০টি আসনে। অন্যদিকে জামায়াতকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগড়া, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, নীলফামারি ও গাইবান্ধার ১টি করে আসনে পুরনো প্রার্থীর বদলে নতুন কাউকে মনোনয়ন দিতে হতে পারে। জাপাকে প্রার্থী বদল করতে হতে পারে কুড়িগ্রাম সদর, মানিকগঞ্জ-৪ আসনসহ কয়েকটিতে। এছাড়া জেপিকে পিরোজপুরের ১টি আসন, এলডিপিকে কুমিল্লার চান্দিনা, নেত্রকোনা সদর, রাজবাড়ি, চাপাইনবাবগঞ্জ-২, খুলনার পাইকগাছা, নওগাঁ ও জামালপুরের ১টি করে আসনে প্রার্থী সংকটে পড়তে হতে পারে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ১/১১’র পর থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তির আগ পর্যন্ত বিএনপি এবং ৪দলীয় জোটের যে বিধ্বস্ত অবস্থা ছিল বর্তমানে তা দৃশ্যত: অনেকাংশেই কেটে গেছে। ৪দলীয় জোটও এখন চাঙ্গা। কারামুক্তির পরপরই খালেদা জিয়া দলের সংস্কারপন্থীদের সম্পর্কে ইতিবাচক বক্তব্য দেয়ায় বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। একইসঙ্গে জোটের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছেন খালেদা জিয়া। প্রার্থী সংকট মোকাবিলা এবং নির্বাচনে জয়লাভের উদ্দেশেই তিনি এসব উদ্যোগ নিয়েছেন। জরুরি অবস্থা বহাল রেখে নির্বাচন হলে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে ৪৪ জনের মতো প্রার্থী হতে পারবেন না। এরা নিজেরা নির্বাচন করতে না পারলেও তাদের পরিবারের যে কোনো সদস্য নির্বাচনে প্রার্থী হলে ফলাফল তাদের অনুকূলেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এদিকে, বিএনপির দুর্বলতার সুযোগে জামায়াত আসন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য চাপ দিচ্ছে। ২২ জানুয়ারির বাতিল হওয়া নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতকে ৩৭টি আসনে ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু এবার জামায়াত কমপক্ষে ৭০টি আসন দাবি করতে পারে। সূত্রমতে, জামায়াতকে বড়জোর ৪০টি আসন দেবে বিএনপি। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে বিএনপি রাখবে ২৫০টি। অন্যান্য দলকে ৫০টির বেশি আসনে ছাড় দেবে না। ২২ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে যেমন এরশাদের জাপাকে নিয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগ, দু’দলই টানাটানি শুরু করেছিল, একই খেলা দেখা যেতে পারে এবারও। তবে শেষ পর্যন্ত এরশাদ আওয়ামী লীগের সঙ্গেই মহাঐক্যজোটে থাকবেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের কাছে এরশাদ ৫০ থেকে ৭০টি আসন দাবি করলেও আওয়ামী লীগ ৪০ থেকে ৫০টির বেশি আসনে ছাড় দেবে কি-না, সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। জাপা, এলডিপি, বিকল্পধারা, ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদসহ মহাঐক্যজোটের শরিকদের আওয়ামী লীগ ৬০ থেকে ৭০টির বেশি আসনে ছাড় দিতে রাজি হবে না। যদি একদিকে বিএনপির নেতৃত্বে ৪দলীয় জোট এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাঐক্যজোট নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় তাহলে মহাঐক্যজোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর এলাকায় ৩৩টি আসনের মধ্যে দুটি ছাড়া ৩১টি আসনেই মহাঐক্যজোট জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খুলনা বিভাগের ৩৭টি আসনের মধ্যে মহাঐক্যজোট ২৫টির মতো আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে দু’একটি ছাড়া অধিকাংশ আসনেই মহাঐক্যজোটের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই অবস্থা দাঁড়াবে বরিশাল বিভাগেও। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, এবং রাজশাহী বিভাগে দুই জোটই কাছাকাছি সংখ্যক আসনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে মহাঐক্যজোট ১৭০ থেকে ১৯০ আসন এবং ৪দলীয় জোট ১১০ থেকে ১৩০ আসনে বিজয়ী হতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে জোট এবং মহাঐক্যজোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি ঠিকভাবে হয় কি-না, সেটির ওপর। এছাড়া আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারবে কি-না, এর ওপরও মহাঐক্যজোটের জয়ী হওয়ার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে। সম্পাদনা: হুমায়ুন কবির খোকন